Wednesday, October 17, 2007

চাপাবাজির অন্তরালে


জানিস, আমাদের দেশের মানুষেরা নাক দিয়ে ভাত খায়। এমন চাপবাজি হজম করা কঠিন। না না... আপনার হজম করার দরকার নেই। এক কাজ করুন - এক ঝারি মারুন। দেখবেন তরতর করে চাপাবাজটা তার সুর পালটিয়ে বলবে-না, মানে... নাকের একটু নিচ দিয়ে

একটু পর দুয়েকটা চাপা আমিও মারব। তবে, প্লি--জ ঝারি মরবেন না। আমিই সত্য কাহিনী বলে দিব।

চাপা-১: শামীম যে বক্সটায় কয়েন জমাত - সেটা এখন খালি... না না, পুরা খালি না, তিনটা এক টাকার কয়েন এখনো অবশিষ্ট আছে।

চাপা-২: তানিয়া যে বক্সটায় কয়েন জমাত - সেখান থেকে সব কয়টা পাঁচ টাকার কয়েন উড়ে গেছে। না, সব কয়টা না... মাত্র আড়াইশটার মত উড়ে গেছে।

চাপা-৩: বেলায়েত ভাইয়ের মানিব্যাগে থাকা লাখ টাকার হিসাব মিলছে না।... না, মানে... লাখ টাকা না, হাজার টাকা।

চাপা-৪: শান্তা আপুর কানের সোনার দুলটা পাওয়া যাচ্ছে না।... না, আসলে সোনার না, সোনার জলে ধুয়া।

চাপা-৫: মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে শামীম Head & Shoulder-এর যে বোতলটা কিনেছিল - সেটাতে এখন আর কিচ্ছু নাই। ... না, মানে... কিছু নাই- তা না, বোতল ভর্তি পানি আছে।


দেখলেন... আমি কত্ত সহজ-সরল মানুষ! চাপা মারার পরপরই কেমন সত্য কথা বলে দিলাম!! তবে একটা সত্য চাপা না মেরে সোজাসুজিই বলি - দুই দিন আগে (ঈদের পরদিন) আমাদের বাসার কাজের মেয়েটা বাড়িতে বেড়াতে গেছে।

Tuesday, October 16, 2007

আটপৌড়ে ভালবাসা



: সেজদা, সন্ধ্যাতো হইল... কিছু খাইবেন?
: পাউরুটি আছে?
: পাউরুটি খাইবেন? (একটু চিন্তা করে) আছেকেমনে খাবেন? কলা দিয়া? নাকি দুধ দিয়া ভিজাইয়া?
: কলা দিয়াই দাও
... ... এরপর...
আসলে এর অনেকক্ষণ পর সে আসল- কলা আর পাউরুটি নিয়েখাওয়া হলখাওয়ার পর-
: (আমতা-আমতা স্বরে) আপনেরে একটা মিছা কথা কইছি...
: কি? এখন নিচের দোকান থেকে পাউরুটি কিনে আনলা?
: আয়-হায়! (মাথায় হাত) আপনি বুঝলেন কেমনে? (বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইল অল্পক্ষণ, এরপর দ্রুত বলে যেতে লাগল)... তহন পাউরুটি নাই- এইডা কই নাই কেন জানেন? কইলে যদি আপনে কন- খাইবেন না!


: ধ্যুর! খালি ভাত কমায়! দুপুরে কী না কী খান, রাইতেও এই কয়ডা ভাত খাইলে চলব?

: (আহলাদি কন্ঠে) অ! সেজদা... আমাগ বউদি কেমন আছে? দেখতে কেমন? একদিন লইয়া আইয়েন, দেখুম

: আইচ্ছা, আমি দুষ্টামী করি দেইখখা কি আপনে মাইন্ড করেন? দেহেন, আমি কইলাম হগলের লগে দুষ্টামী করি না এমনকি অমুকদাদার লগেও না! খালি আপনের লগে ইকটু-আট্টু

: মাসি, আমি কইলাম কারুর বিয়াতে যাইনাকুনো অনুষ্ঠানেও যাইনাতয় সেজদার বিয়াতে কইলাম যামুআমারে কইয়েন কিন্তুক


উপরের কোন কথায় কি ভালবাসার কোন কমতি আছে? আমি দেখি নাযদি কোন কমতি দেখা যায়, তবে সেটা আমার লেখার অক্ষমতা... বাস্তবে কখনোই ভালবাসার কোন ঘাটতি চোখে পড়েনি

ও হ্যাঁ, ভাল কথা... চরিত্রগুলোর পরিচয় দেয়া হয়নি এখনোওই যে সেজদা- সেটা এই অধম আমিছোট্ট মামাত-খালাত ভাই বোনেরা এ নামেই ডাকে আমায়অবস্থা এমন যে - তাদের বন্ধু-বান্ধবীরাও আজকাল এ নামেই ডাকে। আরে!, আমি সবার ভাই(!) হতে যাব কোন দুঃখে! :P আর ওই যে মাসি - আমি তার অবাধ্য সন্তান - আমার মা

আর এত্তসব কথা যার- সে বিভা আমার মাসির বাসার কাজের মেয়ে এই মাসির বাসায় আমি প্রায়ই যাই- কারণে-অকারণে। বড় মাসতুত বোনটাকে খোঁচাতে খুবই ভাল লাগে আমার। আমার পিছনেও লেগে থাকে সে! শুধু সে না... বাসার সবাই। সমপর্কটা তাই বরাবরই ভাল। কিছুদিন আগে অসুস্থ ছিলাম। তাই ওঠে গেছি মাসির বাসায়। ভাল ভাল খাবার... আদর-যত্ন...বুঝতেই পারছেন! মাসি থাকে ঢাকার বাইরে, চট্টগ্রামে- চাকরির কারণে। এদিকে বাসার দেখভালের পুরু দায়িত্বটাই থাকে বিভার উপরে। মেয়েটা কী সুন্দর করেই না বাসা সামলায়! মাসতুত বোন দুটি যদি কোন কারণে- বিশেষ করে খাওয়া আর পড়া নিয়ে অবুঝের মতো আচরণ করে, সে কী চমকার করেই না বুঝায় তাদের! কখনো যুক্তি দিয়ে কখনোবা দার্শণিকের মত কথা দিয়ে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রই।

মাসির বাসায় একটা এক্সট্রা মোবাইলে আছে - সিটিসেল। খুবই পুরানো মডেল। ঠিকমত চার্জও থাকেনা। সারাদিন চার্জ দিতে হয়। তবুও সেটটা আছে। শুধু আছে না, বহাল তবিয়তে আছে। কয়েকদিন আগে পুনরায় রেজিস্ত্রেশনও করা হয়েছে। আমার মেসোর আবার সব কিছুতেই একটু বাড়াবাড়ি কি না... বাসায় আরো দুই-দুইটা মোবাইল থাকার পরেও যদি কখনো এমন হয় যে- কেউ বাসায় নাই, তখন কি হবে? হায় হায়! তখন কি হবে?? সুতরাং বাসায় তো একটা এক্সট্রা মোবাইল রাখতেই হয়! চুপি চুপি আরেকটা কথা বলে রাখি- এখন ওই বাসায় টিএন্ডটি লাইনও আছে। যাই হোক, ওই মোবাইলটা এখন অনেকটা বিভার হয়ে গেছে। অবস্থা এমন যে- ওই মোবাইলে কল আসলে কে করল সেটা না দেখেই মেসো সজোরে চিকার দেয় - অই বিভা... তোর ফো---ন। কিংবা কখনো যদি ওই সেটটা খুঁজতে হয়, সবাই বলে- বিভার মোবাইলটা কোথায়? ওই সেটে যে কয়েকটা কল আসে, সেগুলো বিভারই।

একদিন সন্ধ্যায় বিভা আমাকে বলছে-
: জানেন সেজদা, আজকে না আমার মনডা খুবঐ ভালা
: (তার চোখের ঝিলিক দেখে ভাল লাগে) কী এমন ঘটল আজ - শুনি।
: আইজকা আমার বইনপুতে ফোন করছিল। বহুদিন বাদে আইজ কথা হইল হের লগে!
: তাহলেতো তোমার মন খুবই ভাল!
: হ! ... আরে, হের লাইগগাই তো আজকা রিক্সাওলারেও কিছু কইলাম না।
: রিক্সাওলা আবার কি করল? (কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি)
: আর কইয়েন না। বাইরে গেছিলাম একটা কামে। বসায় তাড়াতাড়ি ফেরত আওন দরকার। কোন রিক্সা আইয়ে না। হেশে এক বান্দরের রিক্সায় উঠছি। হের মুখ যে এত্ত খারাপ! (চেহারায় ঘৃণার ছাপ স্পষ্ট) কী কমু সেজদা! হারাডা রাস্তা খারাপ খারাপ কথা কইতে কইতে আইছে। নামুনের সময় ভারা লওনের পরে কয় কি জানেন? আবার দেখা হইব! হু! (ভেংচি কাটে সে)
: (তার বলার ঢং দেখে আমি হাসি)
: হাইসেন না... হাইসেন না... মেজাজডা আমার এমুন খারাপ হইছিল! অন্যদিন হইলে আমি হেরে জুতা দিয়া মারতাম। খালি মনডা ভালা আছিল বইলা...

কী! এখনো মনে হচ্ছে- তার ভালবাসার কমতি আছে? মনে হওয়ার কথা না। টাকা-পয়সার দিক দিয়ে গরীব হতে পারে সে, মনের দিক দিয়ে নয়। নইলে শুধুই একটা ফোনের কারণে এমন অপমানও নিশ্চুপ সহ্য করতে পারে! তবে বিভার মনে অনেক কষ্ট। তার বাবা ক্যান্সারের রোগী। কাজ-কর্ম তেমন একটা করতে পারেনা। বিভা সামান্য যে কয়টা টাকা আয় করে- পুরোটাই পাঠিয়ে দেয় বাবার কাছে। এক পয়সাও রাখেনা নিজের কাছে। ভাই আছে বটে, তবে নিজের পরিবার নিয়েই ব্যস্ত। বড় ভাইটাকে বিভা একদমই দেখতে পারেনা। সে নাকি একটা আস্ত শয়তান! আরেকটা ভাই আছে, ছোটবেলায় হারিয়ে গেছিল। বাড়ি ফিরেছে কিছুদিন আগে। এখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি তার সাথে। ভাইটার চেহারাও মনে নেই তার। এবারের পুজার ছুটিতে বাড়ি গেলে দেখা হবে। এ নিয়ে সে বেশ উত্তেজনায় আছে।

কয়েকদিন পরের কথা-
: জানেন সেজদা, আজকা না আমার মনডা খুবঐ খারাপ!
: কেন? আজকে আবার কী ঘটল? (অজানা আশংকার ঘন্টা বাজে মনে)
: আইজকা আমার ঐ ভাই ফোন করছিল।
: কোন ভাই?
: ওই যে ছোডবেলায় যেয় হারাইয়া গেছিল।
: তাইলেতো তোমার মন ভাল থাকার কথা!
: আর ভালা... (দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সে) জানেন ফোন কইরা কি কয়?
: কি কয়?
: হেয় ফোন করছে... আমি জিগাই কেমন আছস? আর হেয় কয় কি জানেন? তর কাছে ২০ হাজার টাহা হইব? (কথা বলতে বলতে আস্তে আস্তে রেগে যাচ্ছে সে) আরে! এত্তদিন পরে ফোন করছস - জিগাবি তো কেমুন আছি! না, হেয় কয় টাহা দে! (মেজাজ এখন চরমে)
: এত টাকা তোমার কাছে চায় কেন?
: আর কইয়েন না... বাবারে টাহা পাডাইতো... বারির হগলে মনে করে আমি টাহার গাছ! যার যহন টাহা লাগে খালি আমার কাছে চায়। (অভিনয় করে সুরে সুরে বলতে শুরু করে) অই বিভা আমাগ ঘরটা ঠিক করুম- দশ হাজার টাহা দিস ... ক্ষেতে ফসল করুম- কিছু টাহা না অইলেঐ না... মাসি, আমারে জুতা দিবা না?... এক দুলাভাই আছে- হেয় হগলেরে ধার দেয়, হেয়ও কয়- কষ্টে আছি, কিছু টাহা পাঠাইসতো... ... আর না দিলেঐ ভালা না আমি।
: (আমি চুপ করে চেয়ে থাকি। কোন শব্দ খুঁজে পাইনা)
: আবার দেহেন, জীবনে একদিন আমার খুঁজও লয় না। আমি কেমনে থাহি না থাহি কিচ্ছু জিগায় না। (দুঃখ-ভরা অভিমানী কন্ঠে) ছোডবেলা থেইক্কা মাইনষের বাড়ি বাড়ি কাম কইরা খাই। কতদিন না খাইয়াও থাকছি। বড় ভাই একবার কয়ও নাই যে- আমার বাড়িত খা! (কথা বলতে বলতে সে আবার রেগে যেতে থাকে) আর টাহা চাওনের বেলায় আমার কাছে...
: (তার গলার ঝাঁঝ আমাকেও ছুঁয়ে যায় । আমি এখনও কথা বলতে পারিনা। বিভা আপন মনে বলতে থাকে)
: ভাবছিলাম ছোডডা ভালা হইব... নাহ, হেয়ও! (রাগ এবার বিত্রৃষ্ণার রূপ নেয়) ধুর! এইতানের লগে সম্পর্কঐ রাহুম না। এইতানেরা জীবনে আমারে না কোনদিন দেখছিল, না কোনদিন দেখব।... হেগো সম্পর্ক ধুইয়া কি পানি খাইমু!


ভালবাসা যার মনে- সে ভালবাসা পায়না। তার আটপৌড়ে ভালবাসা ঠুঁকরে মরে পয়সার কাছে... লোভের কাছে... অমনুষ্যত্যের কাছে...

Thursday, July 19, 2007

A Shocking Incidence


It’s few days I’m suffering mentally.

My THAMMA (grand-mother) … about 95 years of age... She got ill some days ago… seriously ill. It seems that it is her last disease in life. Jaundice – the disease. Doctor said- it’s due to a STONE in her stomach. Operation might be needed. Unfortunately her age and physical condition might not support this. But it’s the specialist doctor who can confirm whether it would be possible or not. So she should be transferred to Dhaka.

Her sons and daughters met together… discussed the situation. Pathetically, they reached in conclusion that her physical condition is not that much well to transfer her to Dhaka. They were certain that operation must not be possible; it would merely send her to death.

This decision just shocked me…. The main person behind this is some elder person – mighty enough to suppress others. I don’t know who were against this decision, but could not protest. My father was such one. But he did not posses enough courage to deny. Shame! My elder brother tried to change the decision. He got some in his side … even including he mighty person. Although not from heart, but from social point of view. But almost all put ALL RESPONSIBILITIES to my brother. Strange!! One person is trying, but all are discouraging him!! Pity… just pity… Even a son who stays in Dhaka told that if she could not be admitted in hospital, then it would be VERY VERY tough to continue her treatment. Directly he did not utter that he would not take her to his own house. Another son, whom I dislike most, told that “whatever you can do, I’ll not do anything, not even my wife.” Pathetic!! Simply pathetic!!! They followed another way - they STRONGLY told my brother to ENSURE the admission in hospital. But as a matter of fact, it might be 2 days late… virtually impossible for my brother to do so staying at home. So that time he had to come back from his position. In the mean time, the physical condition got worse...

The ultimate bad man is myself... Just observing, doing nothing.... shame on me!

My mother telephoned me to go home, as thamma can lie to death any time… I’m going… …