
শেষ বিকেলে বিছানায় শুয়ে শুয়ে যখন আড়মোড়া ভাঙছিলাম - খেয়াল করলাম বাইরে দারুণ বাতাস। বেশ আরামের। হালকা ঠান্ডা। মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে একটু পর। কিন্তু বাতাসটাই ভাল লাগছে। মাঠে গেলে আরো ভাল লাগত। সবি (রুমমেট) কে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম। এতে যতক্ষণ দেরী হল, ততক্ষণে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করেছে। সবি এবার ভিজতে চাইল। সামনে পরীক্ষা। বললাম ভিজব না, যদিও কষ্ট হল। বৈশাখের বৃষ্টি, বছর শুরুর বৃষ্টি, আর আমি ভিজব না - কষ্ট হবে না? তবুও সংযত করলাম নিজেকে। বাস্তবতার স্বার্থে হত্যা করলাম মনের ছোট্ট ইচ্ছাকে।
এখন কী করি? নিচে ঝালমুড়ি বিক্রি করছে। ভাবলাম খেয়ে আসি। এগিয়ে চললাম সেদিকে। তিন তলা হতে যেই না নিচে নামলাম, মনটা আবার বেঁকে বসল। বৃষ্টিতে ভিজার ইচ্ছেটা আবার জেগে উঠল। ইচ্ছাটাকে দ্বিতীয়বার আর হত্যা করলাম না। একটা রুমে মোবাইল-মানিব্যাগ-জামা রেখে হলের মাঠে ভিজতে নামলাম আমরা দুই রুমমেট। কিন্তু বিধি বাম। এতক্ষণে বৃষ্টি থামতে শুরু করেছে। তবুও মাঠে দাঁড়িয়ে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ। যা ভিজলাম তাতে কিছুই হল না। এরপর যখন জামা পরলাম - সব আবার আগের মতোই স্বাভাবিক, যদিও পরনে বৃষ্টি-ভিজা প্যান্ট।
ভিজা অবস্থায়ই ঝালমুড়ি খেলাম। এরপর কেন্টিনে গেলাম নাস্তা খেতে। খাওয়া শুরু করলাম। এদিকে আমাদের নিয়ে প্রকৃতির খেলা থামে না। বৃষ্টি আবার নামতে শুরু করেছে। আমারাও কি হার মানি! আবার ভিজতে নামলাম। এবার গেলাম ক্যাম্পাসে। চিরচেনা বুয়েট ক্যাম্পাসে। থেমে থেমে ঝরতে থাকা ধারায় ভিজতে ভিজতে রাস্তায় হাঁটতে লাগলাম। উদাসী মনে চক্কর দিলাম পুরো ক্যাম্পাস। মনটা ভাল হয়ে গেল। বৃষ্টি শেষে সন্তুষ্ট চিত্তে রওনা দিলাম হলের দিকে - রুঢ় বাস্তবতার বিরুদ্ধে বিজয়ী এক মন নিয়ে... ... ...
(